Foodiez Magazine

ঈদের খানা খুব বেশি না !!!

সারা মাস রোজা রাখার পর ঈদের সময় হুট করেই খাদ্যভ্যাসে ব্যাপক একটা পরিবর্তন আসে ফলে, অতিরিক্ত তৈল আর মিষ্টিজাতীয় খাবার খেয়ে অনেকেরই ঈদের আনন্দে ভাটা পরে। তাই সবারই উচিৎ একটু ভেবেচিন্তে খাবার খাওয়া। তাই চলুন দেখি কিছু বিধিনিষেধ......................

১. ঈদের সময় অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় খাবার, তেল-মসলা,পোলাও, বিরিয়ানি এড়িয়ে চলুন ।

২. সালাদ জাতীয় খাবার যেমন শসা, টমেটো, লেবু, গাজরের সালাদ এবং আঁশযুক্ত সবজি প্রতি বেলার খাবারের সঙ্গে  রাখুন।

৩. কোলাজাতীয় সফট ড্রিংকস বর্জন করুন।

৪. খাবারের পর দই খাওয়া উপকারী।

৫. খাবারের ফাঁকে ফাঁকে প্রচুর পানি ও  ফলের জুস পান করতে পারেন।

৬. অতিভোজন এড়িয়ে চলুন।

৭. খাবার ভালো করে চিবিয়ে খান। সবাই মিলে গল্প করতে করতে খাওয়ার সময় পাকস্থলীতে অতিরিক্ত বাতাস ঢুকে বারবার ঢেঁকুর তোলার সমস্যা হতে পারে।

৮. যাদের হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস আছে তাদের লাল মাংস অর্থাৎ গরু বা ছাগলের মাংস ইত্যাদি এড়িয়ে চলতে হবে।

৯. যাদের পেপটিক আলসার আছে তাদের তৈলাক্ত ও ঝাল মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।

১০. যারা নিয়মিত ওষুধ সেবন করে, উৎসব-আনন্দে তাদের ওষুধ সেবন যেন বাদ না পড়ে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।

 

ঈদ মানেই নতুন নতুন জামা কাপড়ের সাথে মজার মজার খাবার দাবার। লাচ্ছা সেমাই আর ক্ষির পায়েসের সাথে থাকে হরেক রকম রোস্ট আর কোরমা পোলাও। সারা মাস রোজার পরে এক সাথে এতো খাবার সব সময় সুখের হয় না। অনেকেই অনেক সময় অনেক বেশি খাবার খেয়ে অনেকটাই সমস্যায় পড়েন। তাই সবারই উচিৎ নিয়ম মেনে খাবার খাওয়া। খাবারে স্বাদ আর পুষ্টিগুণ দুটোই মাথায় রেখে আমাদের খাবার তালিকা করা দরকার।

" ঈদে সকালের খাবার "

ঈদের সকালে অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার না খাওয়াই ভালো। বা ঈদের সকালে ইসুবগুলের ভূসি পানিতে মিশিয়ে খেয়ে নিতে পারেন। এর সঙ্গে প্রচুর পানি পান করে নেবেন।ঈদের সকালে অবশ্যই স্বাস্থ্যকর খাবার ভেবেচিন্তে খেতে হবে। কেননা রোজায় একভাবে চলার পর ঈদের সকালের খাবার অনেকেই ঠিকমতো খেতে না পারলে এসিডিটি, বুক জ্বালাপোড়া, পাতলা পায়খানা বা বদহজম ইত্যাদি সমস্যা হয়।সকালে হালকা নাস্তা যেমন তেল ছাড়া পরোটা, সবজির কোনো মজাদার রেসিপি ও সেই সাথে আম দুধের মিষ্টান্ন খাওয়া যেতে পারে। চা বা কফি না খেয়ে গ্রিন টি খেলে ভালো।

" ঈদে দুপুরের খাবার "

ঈদের দিন দুপুরে সবচেয়ে রকমারি খাবারের আয়োজন থাকে। বাড়ির সবাই মিলে খাওয়া-দাওয়ার মজাই আলাদা। নানা রকম খাওয়া-দাওয়া হয় বলে দুপুরের ম্যানুতে স্বাস্থ্যকর ও ভিন্নধর্মী রেসিপি রাখা যেতে পারে। যেমন পোলাও বা চিকেন বিরিয়ানি, মুরগির কোরমা বা রেজালা, মাছের যেকোনো রেসিপি খাওয়া যেতে পারে। খাওয়ার পর টক দই খাওয়ার যেতে পারে।

" ঈদে রাতের খাবারের ম্যানু "

সারাদিন ঘুরাঘুরি আর আড্ডাতে অনেক রকম খাবার খাওয়া হয়। বিশেষ করে বন্ধুদের বাড়ি বেড়াতে বেড়াতে খাবারের পরিমান নাগালের ভিতরে আর থাকে না। তাই রাতের খাবারের ক্ষেত্রে একটু বুঝে শুনে ম্যানু নির্ধারণ করতে হবে। সারাদিন পোলাও বা বিরিয়ানি খেলে রাতের ম্যানুতে ভাত ও রুটি ভালো। তাছাড়া বদহজম হওয়ার আশঙ্কা থাকে। রাতের খাবার খাওয়ার পর হালকা একটু হাঁটলে ভালো। খাওয়া শেষ হওয়ার আধা ঘণ্টা পর পানি খেয়ে নেবেন।

"ঈদের ড্রিংক ও পানীয় "

কথায় আছে জ্ঞানীরা শুধু পানিই পান করে। অর্থাৎ তরল মানে পানি হচ্ছে সবচেয়ে উত্তম ড্রিংক। পানির সাথে লেবুর রস মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান হজম ও শোষণে সাহায্য করে। এ ছাড়া টক দইয়ের লাচ্ছি, ফলের রস (চিনি ছাড়া), লেবু পানি, জিরা পানি ইত্যাদি স্বাস্থ্যকর পানীয় কোল্ড ড্রিংক এড়িয়ে চলা সবচেয়ে ভালো।

ঈদের মিষ্টান্ন তৈরিতে তেল ও ঘিয়ে ভাজা এবং সিরায় ভেজানো মিষ্টান্ন  এড়িয়ে চলা ভালো। এই ধরনের মিষ্টান্নতে ক্যালোরি ও ফ্যাট বেশি থাকে। এগুলোর পরিবর্তে দুধ ও ফলের তৈরি মিষ্টান্ন তুলনামূলক ভাবে স্বাস্থ্যসম্মত। যেমন ; ফিরনি, দুধ সেমাই, পুডিং , মিক্স ফ্রুটস চাট ইত্যাদি। তবে যেকোনো মিষ্টান্ন অবশ্যই পরিমাণে কম খেতে হবে।

বয়স এবং রোগ ভেদে খাবারের পরিমান এবং খাদ্য তালিকা অবশ্যই আলাদা আলাদা হবে। মোট কথা সবারই উচিৎ স্বাস্থ সচেতন হওয়া এবং পরিমিত ও প্রয়োজনীয় পরিমান খাবার গ্রহণ করা। 

বিদ্রঃ তথ্য এবং ছবি সংগ্রীত। 

home made Best food foodies voice Deshi food dhaka foodies
Was this review helpful? Yes
0 Helpful votes