ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানকে ‘হয়রানি’ হিসেবে অভিযোগ, ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার হুমকি সুপার শপ স্বপনের

PUBLISHED:May 22, 2018 | UPDATED:04:37 PM, May 22, 2018

বাংলাদেশের শীর্ষ স্থানীয় সুপার শপ স্বপ্ন এর বনানী আউট লেটে গত রবিবাব র‍্যাব, সিটি কর্পোরেশন এবং বিএসটিআইইর ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানের পর দিন সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে স্বপ্নের পক্ষ থেকে এর প্রতিবাদ জানানো হয়। অভিযানের সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয় না অভিযোগ করে ‘হয়রানি’ বন্ধ না হলে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে সুপার শপ স্বপ্ন।

গুলশানে এই সংবাদ সম্মেলনে স্বপ্নের নির্বাহী পরিচালক সাব্বির হাসান নাসির বলেন, “বনানী ১১ নম্বর আউটলেটে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও একজন ম্যাজিস্ট্রেট আসছেন। তারা বেশ কিছু অভিযোগ করেছেন। তাদের অভিযোগগুলো আমাদের কাছে অযৌক্তিক মনে হয়েছে।”

বার বার স্বপ্নে এমন অভিযানকে ‘কোনো একটি চক্রের কাজ’ বলে দাবি করেন তিনি।

সাব্বির বলেন, “বর্তমানে বাংলাদেশের চেইন শপে মার্কেট লিডার আমরা। বাজারে ২৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে স্বপ্নের। আমাদের ক্রেতা দিন দিন বাড়ছে। কোনো একটি চক্র এই ব্যাপারে তৎপর আছে বলে আমাদের ধারণা।”

“এভাবে চলতে থাকলে আমরা কার্যক্রম পরিচালনা করা বন্ধ করতে বাধ্য হব,” বলেন তিনি।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে স্বপ্নকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। আদালত স্বপ্নের বনানী আউটলেটে গরু ও পানীয়ের অতিরিক্ত দম রাখা, পেঁয়াজে ওজনে কম দেওয়া, বিভিন্ন পণ্যের মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ পরিবর্তন করা, পচা খাবার সংরক্ষণের কথা জানিয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযোগগুলো নিয়ে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন সাব্বির।

তিনি বলেন, “তারা কোকের এক্সপায়ারড ডেট ফেইক বলেছে। এখানে কোকের প্রতিনিধিরা আছেন। তারা বলেছে, যে এগুলো স্ট্যাম্পিং করে বসানো হয়নি। এখন একজন মানুষের হঠাৎ করে মনে হল যে এখানে ফেইক ডেট বাসানো হচ্ছে, তার ভিত্তিতে কোক, পেপসি, স্প্রাইট এই ধরনের পণ্যকে ভিত্তি করে জরিমানা করা হচ্ছে। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব না।

“টেটলি কোম্পানির চা পাতা, এসিআই কোম্পানি ডিস্ট্রিবিউটর। এখানে প্যাকেটজাতকরণের ডেট আছে। উনাদের বক্তব্য হচ্ছে, এখানে কেন প্রোডাকশনের ডেট নেই। তাই জরিমানা করলেন।  বিপণন কোম্পানি ডেট না দিলে আমরা কীভাবে দেব?”

আমদানি করা জুসের অতিরিক্ত দাম নেওয়ার বিষয়ে সাব্বির বলেন, “ফেরিয়র জুসের অরেঞ্জ ফ্লেভার ও লেমন ফ্লেভার দুটো আলাদা। আপনারা জানেন বিভিন্ন পণ্যের ফ্লেভার আলাদা হওয়ার কারণে কিন্তু দাম ভিন্ন হয়ে যায়। যখন ফ্লেভার চেইঞ্জ হবে তখন পণ্য আলাদা হবে এবং বারকোড আলাদা হবে।

“উনারা চেকও করলেন না যে ফ্লেভার আলাদা, তাই দাম আলাদা। বরং দাম কেন আলাদা তাই জরিমানা করে দিলেন। উনারা আমাদের বক্তব্যও শুনলেন না।”

গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজি ৪৫০ টাকা বেঁধে দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন করেন স্বপ্নের নির্বাহী পরিচালক।

“বুড়া গরুর মাংস আর কচি গরুর মাংসের দাম এক না। ঢালাওভাবে দাম ঠিক করলে হবে?”

পেঁয়াজে ওজনে কম দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “বনানীতে আমরা খোঁজ নিয়ে দেখালাম, সেখানে প্যাকেটজাত কোনো পেঁয়াজই ছিল না।”

মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্যগুলো আউটলেটের গুদামে ছিল জানিয়ে সাব্বির বলেন, “আপনারা জানেন, স্বপ্নের আউটলেটগুলো বেশি বড় নয়, ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার বর্গফুট। আমাদের এখানে যেসব পণ্যের ডেট এক্সপায়ার হয়, সেগুলো আমরা আলাদা করে রাখি। লিখে দেই ‘নট ফর সেল’, তার মানে প্রোডাক্টগুলো বিক্রি হবে না। পরে সাপ্লায়ার বা ভেন্ডররা আসলে এগুলো নিয়ে যাবে।

“এটা শুধু স্বপ্নে নয়, বাংলাদেশের সব সুপার স্টোরেই হয়। তো এটাতে দোষের কী হল, আমরা বুঝতে পারলাম না।”

তথ্যঃ বিডিনিউজ২৪

gossip foodiez unhealthy unhygienic Shawpno Super Shop
Was this review helpful? Yes
0 Helpful votes

Advertisement