হাজার হাজার হাজী বিরিয়ানি, আসল নকল কিভাবে চিনি?

PUBLISHED:Aug 20, 2017 | UPDATED:05:08 AM, Sep 18, 2017

“বিরিয়ানি”! নাম টা শুনলেই  জীভে জল চলে আসে। বিরিয়ানি পছন্দ করেনা এমন মানুষ  চারপাশে খুঁজে পাওয়া কঠিন।  বিশেষ করে ঢাকার মানুষের কাছে পুরান ঢাকার হাজী বিরিয়ানি। কিন্তু বিপত্তিটা অন্য জায়গায়। শুধু পুরান ঢাকা না বরং পুরা ঢাকা শহরের অলিগলিতে ছড়িয়ে আছে হাজার হাজার হাজী বিরিয়ানি। কীভাবে চিনবো আসলেই হাজী বিরিয়ানি বলতে মূলত সেই আদি আমলের সেই ঐতিহ্যবাহী হাজী বিরিয়ানি কোনটা? তাহলে চলুন দেখা যাক এই হাজীর বিরিয়ানির ইতিকথা।

হাজী মোহাম্মদ হোসেন এই নামটা হয়ত কারো ততটা পরিচিত নয়। তবে যদি বলা হয় হাজীর বিরিয়ানি তাহলে সবাই ই চিনবে। এই হাজী মোহাম্মদ হোসেন ই হচ্ছেন হাজী বিরিয়ানির কর্তা। ১৯৩৯ সালে পুরান ঢাকার বাসিন্দা হাজী মোহাম্মদ হোসেন শুরু করেছিলেন তার প্রথম যাত্রা। এক পাতিল বিরিয়ানির মাধ্যমেই আরম্ভ হয়েছিল তার বিরিয়ানি রান্না। বিরিয়ানির স্বাদ ও মান দুটোই পুরান ঢাকার  মানুষের অনেক পছন্দ হওয়ায় পরবর্তীতে এই বিরিয়ানির নামডাক চারিদিকে ছড়িয়ে পরে। এভাবেই একসময় এই হাজীর বিরিয়ানি পুরান ঢাকায় ঐতিহ্য হয়ে উঠে।

বংশগত ভাবে হাজী মোহাম্মদ হোসেন এর মৃত্যুর পর তার ছেলে হাজী গোলাম হোসেন এই ব্যবসায় এর হাল ধরেন। ২০০৬ সালে হাজী গোলাম হোসেন এর মৃত্যুর পর তার ছেলে হাজী মোহাম্মদ শাহেদ হোসেন ব্যবসায় বসেন। বর্তমানে  হাজী মোহাম্মদ বাপী এই ব্যবসায় দেখাশোনা করছেন।

হাজীর বিরিয়ানির প্রধান বিশেষত্ব হচ্ছে এই বিরিয়ানি রান্নার প্রক্রিয়া তে কোন ঘি বা বাটার ওয়েল ব্যবহার করা হয় না। খাটিঁ সরিষার তেল এ রান্না করা হয় তাদের এই বিরিয়ানি। আর শুধুমাত্র খাসী মাংস দিয়েই রান্না করা হয় হাজীর এই বিখ্যাত বিরিয়ানি। তাদের বিরিয়ানির আরেকটি বিশেষত্ব দেখা যায় পার্সেল এর সময়। নাজিরাবাজার শাখায় তাদের বিরিয়ানি পার্সেল করা হয় বিশেষ ধরনের কাঁঠালের পাতার ঠোঙ্গায়। অন্য কোন কাগজের বক্স তারা ব্যবহার করেন না।

 

সকাল ৭ টা থেকে ৯ টা এবং সন্ধ্যা ৭.৩০ থেকে  রাত  ৯.৩০ পর্যন্ত এই  দুই সময়ে তাদের আলাউদ্দিন রোডের শাখাতে বিরিয়ানি পাওয়া যায়। বিরিয়ানির যতই চাহিদা থাকুক না কেন, সকালে ২ ডেকচি ও রাতে ৩ ডেকচি বিরিয়ানি ই তারা রান্না করে থাকেন। বড় বড় অনুষ্ঠানে তাদের কাছে বিরিয়ানির অর্ডার ও এসে থাকে। তাছারা বিভিন্ন নামিদামি ব্যাক্তিগন ও এখানে বিরিয়ানির অর্ডার দিয়ে থাকেন আবার কখনো নিজেরাই এসে খেয়ে যান।  

হাজীর বিরিয়ানির শাখা মূলত ৩ টি। তাদের প্রধান শাখা ঢকার বংশাল এ নাজিরাবাজারে ৭০ কাজী আলাউদ্দিন রোডে অবস্থিত। বাকি দুটি শাখা ৯৯ মতিঝিল (করিম চেম্বার) বিমান অফিসের পাশে এবং আরেকটি বসুন্ধরা বারিধারা আবাসিক এলাকার ক ১১/৬ রোড এ অবস্থিত। মতিঝিল শাখা দুপুর ১২ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। আর বসুন্ধরা শাখা দুপুর ১২ টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।

কিন্তু ইদানিং হাজী বিরিয়ানির দোকান অনেক জায়গাতেই দেখা যায়। শাখা প্রধানত তিনটি হলেও ঢাকা শহরে এখন হাজীর বিরিয়ানির ছড়াছড়ি। বানিজ্য মেলায় প্রতি বছর হাজীর স্টল বসে। কিন্তু এগুলার কোনটাই আসল নয়। উপরোক্ত তিনটি শাখা ছাড়া তাদের আর কোন শাখা নেই। অনেকেই এইসব নকল হাজীর বিরিয়ানি তে খেয়ে বিরিয়ানির মান ও স্বাদ আগের মত নেই বলে ধারনা করছেন। মতিঝিল শাখার ম্যানেজার আওলাদ হোসেন একবার এক সাক্ষাতকারে বলেন যে তিনটি শাখায় তাদের রান্নার মান ও স্বাদ একই বজায় থাকে। কিন্তু নকল এসব হাজীর বিরিয়ানির জন্য তাদের নাম ও সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে তিনি জানান।  মতিঝিল এর ঘরোয়া হোটেল এর পাশেই রয়েছে একটি হাজীর বিরিয়ানির দোকান যা আওলাদ হোসেন নকল বলে জানিয়েছেন। মেলার স্টল গুলোতেও ক্রেতারা নকল বিরিয়ানির দোকানের মাধ্যমে প্রতারিত হচ্ছেন।

এসব নকল হাজী বিরিয়ানির দোকান এর কারনে আসল হাজীর বিরিয়ানির নাম খারাপ হচ্ছে। মানুষ আসল হাজী বিরিয়ানি ভেবে নকল বিরিয়নি খেয়ে প্রতারিত হচ্ছে। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী এই বিরিয়ানির দোকান টি পুরান ঢাকাবাসীদের জন্য সংস্কৃতির অন্য নাম। তাই হাজী বিরিয়ানির খেতে চাইলে আগে কোনটা আসল হাজী বিরিয়ানি সেটা জানা জরুরি।

ছবিঃ সংগৃহীত

রেহনুমা রিয়াজ

traditional food biriyani Dhaka spicy old dhaka Haji Biriyani street food #StreetFood Deshi food Chicken biryani
Was this review helpful? Yes
0 Helpful votes

Advertisement