Foodiez Magazine

মা ও সন্তানের জুড়িতে ‘ন্যান্দস’

ঢাকার রেস্টুরেন্ট গুলোতে খাবার খেতে নানান মানুষ নানান জুড়ি নিয়ে সময় কাঁটাতে যান। কেউ হয়ত ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে আবার কেউবা বন্ধুদের নিয়ে। কিন্তু মা যখন তাঁর শিশুকে নিয়ে খেতে যান সেই জুড়ির চেয়ে বড় জুড়ি আর কি বা হতে পারে? হ্যাঁ মা দিবস উপলক্ষ্যে মা তাঁর ভালোবাসার প্রাণপ্রিয় সন্তানকে নিয়ে ‘ন্যান্দস’ – এর খাবার উপভোগ করতে চলে এসেছেন।


 

একদিকে ঢাকা ফুডিজের আয়োজনে ৫মে থেকে ‘ঢাকা রেস্টুরেন্ট সপ্তাহ’ শুরু হয়েছে। আর তাঁর মধ্যে আবার গতকাল ৮মে রবিবার ছিল মা দিবস। সব মিলিয়ে মা দিবস উৎযাপনে মা আর শিশুর সাথে পরিবার নিয়ে ‘ন্যান্দস’ রেস্টুরেন্টে জমজমাট পরিবেশই ছিল।

ঢাকা ফুডিজের উদ্যোগে ৫মে থেকে ১৪ই মে পর্যন্ত ঢাকা রেস্টুরেন্ট সপ্তাহ চলছে। আর এই রেস্টুরেন্ট সপ্তাহে ন্যান্দস পরিবার ভিন্ন আঙ্গিকে ভিন্ন পরিবেশনায় লাঞ্চ ও ডিনারে ৪৯৯, ১৪৯৯ ও ২৪৯৯ টাকা দরে তিনটি ফুড মেন্যু পরিবেশন করছেন।

এছাড়া “ঢাকা রেস্টুরেন্ট সপ্তাহ” ২০১৬ এর প্রধান দুই পৃষ্ঠপোষক হলো দেশের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন এবং স্কয়ার টয়লেট্রাইস লিঃ। গ্রামীণফোনের স্টার গ্রাহকরা নির্ধারিত প্রক্রিয়া যেমন- মেসেজ অপশনে গিয়ে RW লিখে ৯০০০ নম্বরে পাঠিয়ে দিলে ফিরতি এস.এম.এস এর উত্তর দেখিয়ে ১০% ছাড়ের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। তাছাড়া দেশের শীর্ষস্থানীয় হ্যান্ড সেনিটাইজ ব্র্যান্ড “Sepnil” সপ্তাহব্যাপী রেস্টুরেন্ট গুলোর প্রত্যেকটি টেবিলে বিনামূল্যে তাদের হ্যান্ড সেনিটাইজার সরবরাহ করবে।    

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৪৯৯ টাকার আম প্লাটারে কোয়ার্টার চিকেন, রাইস এর সাথে যেকোন একটি সাইড ডিশ ও উইংস সহ একটি পূর্ণ লাঞ্চ প্যাকেজ পাওয়া যাচ্ছে।

১৪৯৯ টাকার প্যাকেজ মেন্যুতে বাটার ফ্লাই চিকেন ২টা, হুমুস এন্ড পিটা ব্রেড, সাইড ডিশ থেকে কাস্টমার যেকোন ২টি ডিশ পছন্দ করে নিতে পারছে। গোয়ালেমন নামে ২টি ড্রিংস আইটেমও এই মেন্যুর প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত আছে।

তাছাড়া ২৪৯৯ টাকার ফুড মেন্যুতে অল টুগেদার স্পাইসি মিক্সড অলিভ, ভেজিরেড ডিপ, হুমুস নামে একটি অ্যারাবিক ফুড, ফুল প্লাটার হোল চিকেন, চারটা সাইড ডিশ, গার্লিক ব্রেড, পোলস স্লো, স্পাইসি রাইস, ভেজিটেবল গ্রিল থাকছে। তবে কাস্টমাররা সাইড ডিশ নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী নিতে পারবে। তাছাড়া সিট্রা নামে স্পেইশাল ড্রিংস ও স্পেইশাল ক্যারামেল চিজ কেক-ও এই প্যাকেজে রয়েছে।

মা দিবস উপলক্ষ্যে ন্যান্দসে যেন মায়ের ভালোবাসার টানে ভিন্ন রকম একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।  সরেজমিনে দেখা যায়, বেশির ভাগ ক্রেতাই মা এর সাথে সন্তান অথবা পুরো পরিবার নিয়ে ন্যান্দসে রেস্টুরেন্ট সপ্তাহের প্যাকেজ উপভোগ করতে এসেছেন, এমনটাই লক্ষ্য করা গিয়েছে ।  

ন্যান্দসে একজন নিয়মিত ক্রেতা অল অ্যাবাউট ঢাকাকে জানান, আমি ২৪৯৯ টাকার ফুল কোয়ার্টার চিকেনের প্যাকেজটা নিয়েছি। খুব ভালই লাগছে। ন্যান্দসের চিকেনের আইটেমটা সবসময়ই স্পেইশাল। আর এই চিকেনের আইটেমটাই আমার বেশি ভাল লাগে।

শুধুই কি মা দিবস বা রেস্টুরেন্ট সপ্তাহের ১০দিন ন্যান্দসে? না, ন্যান্দসে এমন সব স্পেইশাল খাবার রয়েছে যেসব খাবার একদিন যে উপভোগ করেছে বার বার সে ফিরে এসেছে ন্যান্দসে। এমনটাই অল অ্যাবাউট ঢাকাকে বলেন, ‘ন্যান্দস’ ধানমন্ডি শাখার ম্যানেজার সাইফ আহমেদ।

‘ন্যান্দস’ রেস্টুরেন্টটি এর মালিক ফারন্যান্দো এর নামকরণেই করা হয়েছে। ফারন্যান্দো একজন আফ্রিকান। আর ‘ন্যান্দস’ রেস্টুরেন্টটি সাউথ আফ্রিকার জোহানেস বার্গ শহর থেকেই সাড়া বিশ্বে ছড়িয়েছে।

ঢাকায় ন্যান্দসের মোট খাবারের আইটেম প্রায় ১২টি। এরমধ্যে ন্যান্দসের চিকেন আইটেমটাই সবার কাছে সবচেয়ে বেশি পছন্দনীয়। তবে ম্যানেজার সাইফ আহমেদ আরও জানান, সাউথ আফ্রিকান বার্ডস আই চিলি থেকে একটা স্পেইশাল সস যেটি সবচেয়ে ভিন্ন স্বাদের এবং এটি শুধু মাত্র ন্যান্দসেই আছে। ন্যান্দসে পাঁচ আইটেমের সস পাওয়া যায়। যা সাউথ আফ্রিকা থেকে সরাসরি আসে। যার ফলে এই সসটি সব থেকে ভিন্ন রকমের বলা যায়।

ন্যান্দসের খাবারের স্পেইশাল দিক সম্পর্কে তিনি জানান, আমরা সবকিছু একশত ভাগ হাইজেনিক রাখার চেষ্টা করি যাতে ভোজনপ্রেমিরা স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নিরাপদে খেতে পারে। আর তাই মানুষ ন্যান্দসের খাবার বেশি খায়।

এছাড়াও ধানমন্ডি শাখার ম্যানেজার সাইফ আহমেদ অল অ্যাবাউট ঢাকাকে জানান, ন্যান্দসে বাংলাদেশ দলের জন্য আলাদা ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে। আমাদের ধানমন্ডি শাখায় মাশরাফি, তাসকিন প্রায়ই আসেন। এছাড়াও ব্ল্যাক ব্যান্ডের জন কবির, সোলস ব্যান্ডের পার্থ আমাদের এখানে অনেক আসেন।

তাদের পছন্দের খাবারের তালিকায় সাধারণত কোন আইটেমটি থাকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সিগনেচার চিকেন গুলো তাঁরা বেশি খান।

ছাত্রদের জন্য ন্যান্দসে আলাদা ছাড়ের ব্যবস্থা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, হ্যাঁ ছাত্ররা আইডি কার্ড শো করলে আমরা বিভিন্ন মেন্যুর উপর বাই ওয়ান গেট ওয়ান ফ্রি দিয়ে থাকি। তবে গত তিন দিন আগে এটি বন্ধ করা হয়েছে। মূলত রেস্টুরেন্ট সপ্তাহ উপলক্ষ্যে এটি আপাতত বন্ধ আছে।

 

Source: http://allaboutdhaka.com/details/article/988

Was this review helpful? Yes
1 Helpful votes