পুরান ঢাকা যেন ঢাকনায় ঢেকে রাখা বিরিয়ানির রাজ্য

১৭ শতকের শুরুতে মুঘল শাসনের গোড়ার দিকে ঢাকা অঞ্চলে বিরিয়ানির আগমন। সেই সময় শুধুমাত্র ক্ষমতাসীন পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ অনুষ্ঠানে বিরিয়ানি রান্না করা হতো। আজ সেই মুঘল সাম্রাজ্য, রাজা , রানী কিছুই নেই শুধু আছে সেই ভুবন ভুলানো বিরিয়ানী।

পুরান ঢাকায় জেল খানা আর জল খানা (জল খাবার) দুটোই আছে। পুরনো সেই নবাব অথবা ইংরেজ শাসকদের নাম করা রাস্তা ধরে হাওয়া খেতে খেতে রিক্সায় চলার সময় ভুল করে নিজেকে নবাব ভাবা দোষের কিছু না। আপনি না চাইলেও ক্ষুধার্ত পেট বিরিয়ানির গন্ধ কিছুতেই ভুল করবে না। ঠিক ই নিয়ে যাবে নাম করা কোনো এক বিরিয়ানির রাজ্যে। পুরান ঢাকায় ঠিক কতগুলো বিখ্যাত খাবার আর খাবারের দোকান আছে তা হয়তো গুগলেও নেই। প্রতিটা রাস্তার মোড়ে বা বাঁকে দেখা যাবে বিরিয়ানি , ফালুদা , লাচ্ছি , নুরানী লেবুর সরবত , বাকরখানি , ক্ষেতাপুরি সহ হাজারও আয়োজন।

শুধু মাত্র ঢাকা বা বাংলাদেশ নয় পুরান ঢাকার বিরিয়ানি আর খাবারের ঐতিহ্যে বিশ্বদরবারে প্রসংসার দাবিদার।
ঢাকার রাজকীয় অতীতের অন্যতম অংশীদার পুরান ঢাকার বাকরখানি। একটা আস্ত বাকরখানি মুখে দিয়ে চিবানোর দু:সাহস কারোরই নাই। এর অসাধরন স্বাদ আপনার মুখের ভিতর এমনই আঠালো অবস্থার সৃষ্টি করবে যা আপনাকে না গিলে ফেলতে না বের করতে কোনটাই দিবে না। এ যেন স্বাদের কষ্ট।
কাঠাল পাতার প্যাকেটে আপনি যদি হাজির বিরিয়ানি একটু খানি পরখ করে দেখেন তবে তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে আপনি বাধ্য। সরু বাসমতি চালের কাচ্চি আর খাসির মাংসের গন্ধ ভরাপেটেও ক্ষুধার উকি দেয়।

গ্রীষ্মের দুপুরে ঘিঞ্জি অলিতে গলিতে চলতে চলতে আপনি যদি সামান্যতমও  ক্লান্তি অনুভব করেন  তবে এখানকার ঠান্ডা নুরানী সরবত আপনার মন প্রাণ দেহ সবটাই শীতল করে দিবে।

সারাবছর সারাশহরের মানুষের খাবারের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু থাকে এই বিখ্যাত পুরান ঢাকা। রমজান মাসে সারা শহরের মানুষ তার পরিবার আর বন্ধু বান্ধব নিয়ে ছুটে আসে এখানে সেহরী আর ইফতার করতে। রাত ১২ তার পর থেকে সবগুলো বিখ্যাত হোটেলগুলোতে চলে সেহরী আর বেলা ১ টার পর থেকে চকবাজার সহ সমস্ত পুরান ঢাকায় চলে উৎসব মুখর পরিবেশে ইফতার বিক্রির মেলা। আস্ত মুরগি থেকে শুরু করে আস্ত খাসির রোস্ট সবই পাওয়া যায় এই খাবারের রাজ্যে।
ঢাকা পুরাতন হয়েছে , নতুন ভাবে পুরাতন ঢাকার নাম নিয়েছে পুরান ঢাকা কিন্তু এখানকার সেই মুঘল আমলের বিরিয়ানি আর ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ আজও নতুনই  রয়ে গেছে।

S. M. Sarwar Zahan Nannu 

Was this review helpful? Yes
0 Helpful votes

Comments (0)

{{comment.CommentText}}

{{comment.CommentDateFormated}} Like