তাড়া হুড়া হইলে চলিয়া যাইতে পারেন

PUBLISHED:May 17, 2016 | UPDATED:03:21 PM, Jan 03, 2018

আমি আজ আপনাদের মাঝে একটি ভিন্নরকমের হোটেলের পরিচিতি করে দিবো। হোটেলটি সাধারণত ভাত তরকারির হোটেল। এটি ঢাকার টঙ্গি বাজারে অবস্থিত। মালেকের হোটেল নামে পরিচিত। তবে হোটেলটির নাম তাজ হোটেল। হোটেলটি পাকিস্তান আমলের এবং তার আসবাবপত্র থেকে শুরু করে সবকিছুই কেমন জানি পাকিস্তান ও ব্রিটিশ আমলের ছোঁয়া। হোটেলটি টিনের ঘর এবং ফ্লোর কাঁচা।

বসার জন্য বেঞ্চ টেবিল আছে যা ঐ আমলের মোটা লোহা কাঠের তৈরি এবং সিলিং ফ্যান ও হ্যাজাক লাইট সবই আগের।

পাত্র বেশ কিছু এখনও পিতলের ব্যবহার করে। হোটেলের ভিতরে খাওয়ার জায়গা না থাকলে বারান্দায় অপেক্ষার জন্য লোহা কাঠের বড় বেঞ্চ রাখা আছে। এবং ফ্যামিলি নিয়ে খেতে গেলে পর্দা দেওয়া আলাদা একটি কক্ষ আছে। হোটেলের কাঠের দেওয়ালে বিভিন্ন রকম বানী লেখা ও পূরানো ছবি টানানো আছে। হোটেলে আপনি উচ্চস্বরে কথা ও রাজনীতি আলাপ করতে পারবেন না। এবং আপনার বেশী তাড়াহুড়া থাকলে হোটেল থেকে চলে যাওয়ার কথাও লেখা আছে।

প্রথমে আপনি বেঞ্চে বসলে আপনার কিছু বলার আগে পিতলের জগে পানি, প্লেট, সালাদ, লবন, ময়লা ফেলানো ছোট গামলা রেখে যাবে। এরপর আসবে ভাত, ভাজি ও ডাল। বাকী গুলো আপনাকে অর্ডার দিতে হবে। বিভিন্ন রকম তাজা মাছ, মাংস আছে এখন যে যা অর্ডার দেয়। আপনার কাছে অনেকটা ঘরোয়া পরিবেশ মনেহবে এবং ৪/৫ জনের মত স্টাফ তাদেরকেউ সাধারণ ভাত তরকারি হোটেলের স্টাফদের মত লাগবে না। খাওয়ার টেস্ট যে খুব অন্য রকম আমি সেটি বলবো না তবে মনে হবে আপনি আপনার ঘরের খাবার খাচ্ছেন কারন সাধারণ হোটেলের মত খুব মসল্লা, ঝাল ও তেল বেশী দিয়ে রান্না নয়। তবে খাওয়া শেষে অবশ্যই ওদের তৈরি ঘোল খাবেন যা অনেক মজার। মূল্য খুব বেশী আবার খুব কমও নয়। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমি খাবার ও অন্নন্য ছবি তুলতে পারি নাই। ছবি তুলতে কেমন জানি লজ্জা লেগেছিল। যাইহোক এরই মাঝে দু-একটা তুলেছি হয়ত আপনারা বুঝতে পারবেন।

এখন আমার রিভিউ শুনে কেউ যেতে চাইলে আমাকে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে যায়েন

...‎Mizanur Rahman Kazol

Source: Facebook link

Was this review helpful? Yes
0 Helpful votes

Advertisement