ঝালমুড়ির ঠোঙা থেকে লাইব্রেরিঃ যেভাবে শুরু হল 'পড়ুয়া' প্রোজেক্ট

PUBLISHED:Oct 06, 2015 | UPDATED:11:12 AM, Oct 06, 2015

‘পড়ুয়া’ প্রোজেক্টের শুরুর গল্পটা বেশ চমৎকার। খুব সাধারণ একটা ঘটনা থেকে কিভাবে একটি উদ্যোগ শুরু হতে পারে তার একটি সুন্দর উদারহন হয়ে থাকবে গল্পটি।

২০১৪ সালের নভেম্বর মাসের শুরুর কোনও একদিন ওয়ালি অফিস থেকে বাড়ি আসার পথে গলির মুখে ঝালমুড়িওয়ালা দেখে কিনতে দাঁড়ায়। ঝালমুড়ি খেতে খেতে হঠাৎ হাতের ঠোঙার দিকে চোখ যায় তার। মুড়ি শেষ করে ঠোঙাটা খুলে একটু খেয়াল করে দেখে সে বুঝতে পারে কাগজটি এসেছে ঠাকুমার ঝুলির কোনও একটি বইয়ের পাতা থেকে। আগ্রহ নিয়ে আরও ২-৩ টি ঠোঙা নাড়াচাড়া করতে যেয়ে বুঝতে পারে যে আরও কিছু কিছু গল্পের বইয়ের পাতা ওতে রয়েছে। কোনও একজন মানুষ তার বাসার পুরাতন গল্পের বইগুলো কেজি দরে কোনও একজন ফেরিওয়ালার কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে – এই দৃশ্যটি বেশ পীড়াদায়ক ওয়ালির জন্য। সে নিজেই একজন পাগল পাঠক।

লাইট অফ হোপ নিয়ে কাজ করতে যেয়ে স্কুলে বা বাচ্চাদের কাছে পড়ার বইয়ের পাশাপাশি গল্পের বই, বিজ্ঞানের বই, কমিকস ইত্যাদি পৌঁছে দেয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে ওয়ালি বেশ ভালোই অবহিত ছিল। কিন্তু এক একটি লাইব্রেরি করতে যে খরচ হবে তা স্কুলের বা লাইফ অফ হোপের একার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। ১ লক্ষের উপর প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে পুরো দেশে যার মধ্যে হাতে গোনা কিছু স্কুলে লাইব্রেরি আছে।

ঝালমুড়িওয়ালার ঘটনা ওয়ালিকে আবার নতুনভাবে চিন্তা করার সুযোগ করে দিলো। যাদের বাসায় এমন পুরনো গল্পের বই আছে, যাদের ছেলেমেয়েরা এখন মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিকে উঠে গেছে এমন মানুষজনের বাসায় যেসব গল্পের বই রয়েছে তারা তা চাইলেই দিতে পারে। এই চিন্তা থেকেই AIUB তে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে একটি পুরাতন বই সংগ্রহের জন্য ক্যম্পাইন করা হয় যেখানে বেশ ভালো সাড়া পরে ও অনেকগুলো বই সংগ্রহ হয়। ব্যক্তিগতভাবেও বেশ অনেকে বই দিতে থাকে। এভাবেই শুরু হয় 'পড়ুয়ার' পথ চলা।

বর্তমানে ১০ টি লাইব্রেরি করা হয়েছে এই উদ্যোগের মাধ্যমে। সামনে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগুচ্ছে লাইট অফ হোপ।

প্রোজেক্ট সম্পর্কে নিয়মিত খবর আছে এখানেঃ https://www.facebook.com/porua.the.reader

Was this review helpful? Yes
0 Helpful votes