কলকাতার সেরা ১২ বিরিয়ানি ঠেক

Must Try, News | By #Foodiez news Created Apr 23, 2016

সেই যে সেই কবে ১৮৫৬ সালে লখনউ থেকে তল্পিতল্পা গুটিয়ে ওয়াজিদ আলি শাহ কলকাতার মেটিয়াবুরুজে‌ এসে বাসা বাঁধলেন, তাঁর খুঁটি ধরে এই কলকাতাতেও চলে এল জিভের সেরা প্রেমিক। বিরিয়ানি। গান, কবিতা প্রিয় লখনউ-এর শেষ নবাব মহানগরের হেঁসেলে যে জাদু রহস্যের হদিশ দিয়ে ছিলেন, এখনও, এতগুলো বছর পরেও তার মৌতাতে মাতোয়ারা গোটা শহরটাই। চপচপে খাঁটি ঘি-এ মাখামাখি সাদা আর হলুদ চালের সহাবস্থানে ভালবাসার বুক চিরে সগৌরবে উঁকি মেরে যায় রেওয়াজি খাসি। মুখে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে গলে যায়।  প্রতি গ্রাসের সঙ্গে আচ্ছন্ন করে মিঠে আতরের মিষ্টি সুবাস। থালার এক পাশে উদ্ধত একটা সেদ্ধ ডিম। এবং আলু। হ্যাঁ, লখনউ থেকে বিরিয়ানিকে কলকাতার বুকে এনে ওয়াজিদ আলি শাহই তার সঙ্গে আলুর গাঁটছড়া বেঁধে দিয়েছিলেন। তার পর থেকে কলকাতার বিরিয়ানি ‘আলু ছাড়া?’ জাস্ট ভাবা যায় না! এ শহর নিজের মতো করে বুকে টেনে নিয়েছে লখনউ-এর নির্বাসিত নবাবের রেসিপি। তৈরি করেছে বিরিয়ানির নিজস্ব ঘরানা। আধুনিক নয়, ‘কলকাতা বিরিয়ানি’ মানেই ইন্ডিয়ান ক্লাসিকাল মিউজিকের সুর মূর্ছণা। যে কোনও দিন স্বাদের মামলায় কলকাত্তাইয়া বিরিয়ানি পাল্লা দিতে পারে হায়দরাবাদ বা লখনউকে। তবে আম বাঙালিকে জিজ্ঞাসা করুন, ইউনিনেমাসলি সক্কলে জানাবে তিলোত্তমার বিরিয়ানিই বিশ্ব সেরা। এ বিরিয়ানি এখন আলবাত বাঙালির ডেলিকেশি। ঠিক ইলিশ ভাপার মতোই। তবে রামপাখি এ শহরের বিরিয়ানি পরিবারে বহু বছর ব্রাত্যই ছিল। এখন তার ঠাঁই জুটেছে বটে, তবে রেড মিটের মাখো মাখো প্রেম ছাড়া বিরিয়ানিটা ঠিক জমে না। এই গ্যালারিতে রইল কলকাতার সেরা ১২টি বিরিয়ানি ঠেকের হাল হদিশ। 

 

আর্সালান:

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসা করে দেখুন। চরম আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তিনি বলবেন পৃথিবীর সেরা বিরিয়ানিটা আর্সালানেই পাওয়া যায়।
অবশ্য তিনি একা নন, এ মত বহু বং-জনতারই।

 

সিরাজ:

সেই কবে থেকে মুঘলাই বিরিয়ানি খাইয়ে খাইয়ে কলকাতার গড় ওজন বাড়িয়ে চলেছে সিরাজ, তার ইয়ত্তা নেই।

 

 

আমিনিয়া:

এক সময় নিউ মার্কেট চত্বরে যাওয়া মানেই খাওয়ার ডেস্টিনেশন ছিল আমিনিয়া।এখন ওই অঞ্চলে গুচ্ছ ফুড জয়েন্ট। কিন্তু একটুও কমেনি আমিনিয়ার ঈষত্ শুকনো বিরিয়ানির দাপট।


 

নিজাম:

কাটি রোলের জনক নিজাম বিরিয়ানির মামলায় কারওর থেকেই কম নয়।


 

জীশান:

যদি ওজন নিয়ে আপনার বিন্দুমাত্র কোনও মাথাব্যথা না থাকে, যদি আপনি আসলি বিরিয়ানি লভার হন, তা হলে যে কোনও দিন চোখ বুঝে জীশানের শরাণাপন্ন হন।

 

সাবির:

কলকাতার অন্যতম প্রাচীন রেস্তোরাঁ। আট থেকে আশি, এখানকার বিরিয়ানির আবেদন সর্বজনীন।

 

আজমা:

কলকাতার অদূরে বারুইপুর স্টেশন থেকে নেমেই গুপচি একটা দোকান।দোকানের রূপ দেখে অবশ্য তার রান্নাঘরে কী ঐশ্বর্য লুকিয়ে আছে কল্পনা করা একটু চাপের। 
তবে এক বার যদি নড়বড়ে সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় পৌঁছে যেতে পারেন, তা হলেই দেখবেন এই শহরের সেরা বিফ বিরিয়ানি আপনার উদর তৃপ্তির অপেক্ষায় অধীর আগ্রহে বসে আছে।

 


রয়্যাল:

এমনিতে এই রেস্তোরাঁর পাগল করা চাঁপের গন্ধ গোটা চিত্পুরটাতেই মম করে, তবে এখানকার বিরিয়ানিও কিছু কম যায় না।এবং হ্যাঁ, ওয়াজিদ আলি শাহ-র রেসিপি খানিক অমান্য করে, রয়্যালের বিরিয়ানি কিন্তু আলুবিহীন। 

 

ইন্ডিয়া:

বয়সে খানিক নবীন, তবে স্বাদের মামলায় বিলকুল প্রাচীনপন্থী এখানকার বিরিয়ানি। এই মুহূর্তে কলকাতার অন্যতম সেরা বিরিয়ানি ডেস্টিনেশন খিদিরপুরের এই বিরিয়ানি ঠেক।

 


রহমানিয়া:

কলকাতার আরও এক প্রাচীন বিরিয়ানির ঠেক। স্বাদে বজায় রেখে চলেছে নিজেদের সেই ট্রেডিশন।

 

অওধ ১৫৯০:

নবীন এবং কাঁচা এই বিরিয়ানি ঠেক কিন্তু বিরিয়ানি প্রেমিকদের মনে বেশ দ্রুত জায়গা তৈরি করে নিচ্ছে। হরেক রকম অওধি বিরিয়ানির হদিশ মিলবে এখানে।


 

শাহিমহল:

কলকাত্তাইয়া বিরিয়ানির আঁতুড় ঘর মেটিয়াবুরুজে এই শাহি খানার খাজানাটা লুকিয়ে আছে। ডালডা এখানে এখনও অচ্ছ্যুত। ঘি ছাড়া এখানে বিরিয়ানি হয় না।মেটিয়াবুরুজের অলিতেগলিতে ছড়িয়ে থাকা বিরিয়ানি শিল্পীদের হাতের জাদুর টানে মহানগরের বুকে লুকিয়ে থাকা ছোট্ট লখনউ আসলি বিরিয়ানি প্রেমিকদের ডেসটিনেশন। ইন্সপিরেশন বাকি কলকাতার বিরিয়ানি কারিগরদের।

 

Source: http://www.anandabazar.com/photogallery/top-12-biriyani-destinations-of-kolkata-dgtl-1.364773

Was this review helpful? Yes
3 Helpful votes

Comments (0)

{{comment.CommentText}}

{{comment.CommentDateFormated}} Like