Foodiez Magazine

আমাদের দেয়া কর কি সরকার পাচ্ছে?

আসুন সিন ক্রিয়েট করি ...........

স্থানঃ ধানমন্ডি ২৭ এ অবস্থিত রেড টমেটো রেস্টুরেট 

শিক্ষার উপর প্রত্যক্ষ কর আরোপ করা হয়েছিল ৭.৫% এবং এর বিরোধীতা করে আমরা এই অন্যায় প্রতিহত করেছি । কিন্তু প্রতিনিয়ত নিজেরা টাকা দিয়েও দেশকে রাজস্বের হাত থেকে বঞ্চিত করছি এটাও অন্যায় । কারণ ব্যবসায়ীদের অন্যায় আমরা জেনে হোক না জেনে হোক মেনে নিচ্ছি । খাবার দোকান , সুপার শপ ,পার্লার , সেলুন , জুতা ,জামা যা ই কিনেন আপনার কাছ থেকে কিন্তু ১৫% ভ্যাট কেটে নিচ্ছে । আপনি দোকানীর ধরিয়ে দেয়া বিলের প্রিন্ট কপি খুঁজে নিয়ে খুশি মনে বাড়ি ফিরছেন । আপনি জানেনই না আপনাকে কত বড় ধোকা দেয়া হয়েছে । আপনার হাতে ধরিয়ে দেয়া বিলটি জাস্ট টাকা পয়সার হিসেবের প্রিন্ট কপি আর কিছুই না যদি না তাতে সরকারের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সব তথ্য থাকে ।আপনার দেয়া ভ্যাট দোকানীর পেটে ঢুকবে সরকার পাবে না। সরকার এর রাজস্ব ঘাটতি মানে দেশের তেল গ্যাস বিদ্যুৎ এর দাম বাড়ানো ছাড়া সরকারের আর কিছুই করার থাকেনা । ঋণের টাকায় দেশ বছরের পর বছর চালানো অসম্ভব ব্যাপার । আপনি আমি একটু সচেতন হলে আমাদের দেয়া ভ্যাটের টাকা দোকানীর পেটে না ঢুকে দেশের কাজে আসবে । দেশ উন্নত হবে । 

এবার প্রসঙ্গে আসি , আজকে একটা রেড টমেটোতে খেয়ে বিল দেয়ার পর বিলের পেইড লেখা প্রিন্ট কপি হাতে পাওয়ার পর তাঁদের ম্যানেজার কে ডেকে বললাম ভ্যাট চালানের কপি দেন । ম্যানেজার আকাশ থেকে পড়লেন যেন বার বার আমাদের বুঝাতে চেষ্টা করলেন আমাদের হাতে দেয়া বিলটায় ভ্যাট চালান (আমাকে বলদ ভেবে ছিলেন খুব সম্ভব, কিন্তু আমার মোবাইলে আমি ভ্যাট চালানের নমুনা ডাউনলোড করে রেখেছি ) । আমি বললাম এটা জাস্ট প্রিন্ট কপি চালান নিয়ে আসেন । বললেন " আমি অনলাইনে ভ্যাট দেয় সফট ওয়ারের মাধ্যমে, মুসক চালানের কোন বই ব্যবহার করি না " আমি বললাম "অনলাইন ভ্যাট সিস্টেম এখনো চালু হয়নি পুরোপুরি বাংলাদেশে আর আপনি খাবার দোকান চালানোর লাইসেন্স যে দিন পেয়েছেন ঐদিনই টিন নাম্বার পেয়েছেন এবং চালান বই ও পেয়েছেন" উনি তর্ক করতে লাগলেন ,আমাদের গলার স্বর বাড়িয়ে দিলাম বললাম "আপনি চালান আনেন" আশেপাশের টেবিলের সবাই তাকিয়ে আছে । উনি বললেন মাস শেষে আমি নিজে এনবি আরে গিয়ে টাকা জমা দিয়ে আসি । আমি বললাম "এই মাত্র বললেন অনলাইনে দেন এখন বললেন আপনি দিয়ে আসেন আসলে কয়বার দেন "? এরপর উনি এর পর প্যান প্যান করতে লাগলেন আমার হাতে থাকা বিলের প্রিন্ট কপি টা নেয়ার জন্য । আমি খুব সহজেই বুঝতে পারলাম এই কপি উনি নিয়ে নেয়া মানে আমি ঐ রেস্টু তে খেতে গেছি এমন কোন প্রমাণ যাতে আমার কাছে না থাকে । আমি বললাম আপনি চালান আনুন আমি এটা তখন দিবো অথবা আমিই ক্যাশ কাউন্টারে যাচ্ছি চলেন। এরপর উনি বললেন আচ্ছা আপনি বসেন আমি চালান আনি । কিছুক্ষণ পর চালান এনে দিলো আরেকজন। এরপর মূসক বই কোথা থেকে এলো এখন সেটা জানার জন্য উনাকে খুজেছিলাম কিন্তু পাওয়া যায়নি । তবে আসার আগে আমি আমাদের টেবিলের আশেপাশে থাকা চালানের কপি দেখিয়ে বলে এসেছি এটা দয়া করে নিয়ে নিবেন। উনারা সবাই সায় দিলেন। এইদিকে সুপার শপ মিনা বাজারের কর্মীরা মূসক চালান নামে কোন কিছুর নামই শুনেননি ,ঐখানে চালান চেয়েও আমি তা উদ্ধার করতে পারিনি । আমি আমার দেশকে ভালবাসি আমি এর উন্নতি চাই আমি নাগরিক হিসেবে আমার দায়িত্ব ১০০% পালন করতে হবে । আমি আমার ১০০% সততার সাথে মাথার ঘাম পায়ে ফেলা ইনকাম এর টাকা থেকে প্রতিনিয়ত সরকারকে ভ্যাট দিচ্ছি কিন্তু সে টাকা সরকার পর্যন্ত যাচ্ছেই না, ব্যবসায়ী ধনী হচ্চে দেশ গরীব হচ্ছে এটা হতে পারে না । চালান পত্রের নমুনা দেয়া হলো ,নীল কাগজের পত্রটিতে একটি সিরিয়াল নম্বর থাকে এই সিরিয়াল নম্বর সরকারের ঠিক করে দেয়া বলে সরকার সহজেই ধরতে পারবে কোন দোকানী কর ফাকি দিলে । ইসি আর ভেলিড তবে অবশ্যই সেটা মূসক চালান সহ হতে হবে ।

 

কেবলমাত্র প্রিন্টেড বিল কেই ইসি আর ভেবে নেয়া ভুল হবে । প্রিন্টেড বিলটিতে ভ্যাট রেজিঃ নং এবং সাথে চালান নম্বর থাকতে হবে । তাই আসুন দেশের জন্য একটি ভালো কাজ প্রতিদিন করি একটি সিন ক্রিয়েট করি চালান দিতে ব্যবসায়ীকে বাধ্য করি ।

প্রিন্ট বিলের ও একটি নমুনা দেয়া হলো ।

 

যাতে সহজেই বুঝা যায় চালান পত্র আর বিলের পার্থক্য । ভ্যাট চালান দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফোন করতে পারেন (ছবিতে ফোন নাম্বার দেয়া আছে)

 

From: https://www.facebook.com/lima.saibeen

Was this review helpful? Yes
0 Helpful votes