Foodiez Magazine

অভূতপূর্ব ভ্যাট চালান নম্বর

Yellow Submarine
Waffles
House # 76/2, Road # 127, Dhaka-1212

 

ইয়েলো সাবমেরিন ক্যাফের বনানী শাখায় (Yellow Submarine Cafe - Banani) গিয়েছিলাম এর বহুবিধ সুনাম শুনে এবং চিত্ত-চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী ওয়াফলের ছবি দেখে।

খাবারের মান, স্বাদ, পরিবেশ, ওয়েটারদের ব্যবহার সবই চমৎকার। কিন্তু গোল বাধলো দাম পরিশোধ করতে যেয়ে। তারা একটি কম্পিউটারাইজড বিলের কপি এনে আমাকে দিলেন যেখানে ১৫% হারে ৬৬.৫৩ টাকা ভ্যাট ধার্য করা হয়েছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন নাম্বারের যায়গায় লেখা - SDFGHJKLSADASDASD ASDASD।

কম্পিউটারের কি-বোর্ড সম্পর্কে কিছুটা ধারনা থাকায় বুঝতে পারলাম যে "ইহা প্রকৃত রেজিস্ট্রেশন নাম্বার নহে"। ওয়েটারকে ডেকে ভ্যাট চালানের একটি কপি চাইলাম। 

এখানে উল্লেখ্য, এই চালানের ব্যাপারটা আগে জানলেও এই কিছুদিন আগে পর্যন্ত এ নিয়ে কোথাও তেমন উচ্চবাচ্চ করিনি। সেটা কিছুটা সংকোচ আর চক্ষুলজ্জার কারণে। সেই সংকোচ কাটিয়ে উঠে আজকে দ্বিতীয় বারের মত কোন দোকানে চালানের কপি চেয়েছি। ওয়েটারের অমায়িক ব্যবহারে কিছুটা ছন্দপতন ঘটলেও আশেপাশে অনেক কাস্টমার থাকায় তিনি বললেন যে এ ব্যাপারে জেনে এসে আমাকে জানাবেন। মিনিট পাঁচেক পর সম্ভবত ম্যানেজার নিজেই চলে এলেন। তিনি জানালেন তারা ভ্যাট রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করেছেন কিন্তু এখনো নাম্বার পাননি। ইয়েলো সাবমেরিনের ফেসবুক পেজটি ঘেটে দেখলাম তারা গত মার্চ-এপ্রিল থেকে ব্যবসা করছেন। রেজিস্ট্রেশন নাম্বার পেতে কেমন সময় লাগে তা নিয়ে ধারনা নেই। তাই জিজ্ঞেস করলাম এই ভ্যাট বাবদ নেয়া টাকাটা তাহলে কোথায় যাবে? তার বক্তব্য এখানে কিছুটা অস্পষ্ট, সম্ভবত বোঝাতে চেয়েছেন তারা কয়দিন পর পর এনবিআর এ যেয়ে ভ্যাটের টাকা দিয়ে আসেন। রেজিস্ট্রেশন নাম্বার না থাকলে কিসের ভিত্তিতে কোথায় টাকা দেন সেটা একটা রহস্য। তবে তিনি বললেন যে চাইলে তিনি এই অ্যামাউন্টটা ডিস্কাউন্ট করে দেবেন আমার জন্য। 

ভ্যাট সংক্রান্ত অভিযোগের জন্য একটি নাম্বার আছে যেটা বিভিন্ন শপিং মলে আজকাল বিজ্ঞাপন আকারে দেখা যাচ্ছে। সেই ০২-৯১৩২৫৬৪ নাম্বারে ফোন করলাম। দীর্ঘ সময় ধরে রিং হলেও কেউ ধরেনি। হয়ত ঈদের ছুটিতে চলে গেছেন তারা। এরমধ্যেই ম্যানেজার সাহেব বিলের কপিটি নিয়ে গেলেন ডিস্কাউন্ট করে আনবেন বলে। ফোনে কাউকে না পেয়ে এ ব্যাপারে আর কি করার আছে বুঝতে পারছিলাম না। তাই ভ্যাটের সমপরিমান টাকা ডিস্কাউন্ট দেয়ার পর সেটাই পরিশোধ করে চলে আসি। 

তবে চলে আসার আগে আশেপাশে যারা ছিলেন তাদেরকে বলে এসেছি, ভ্যাটের চালান পত্র ছাড়া কিছুতেই ভ্যাট দেবেন না। অভ্যাসটা এমন দাঁড়িয়েছে ব্যবসায়ীরা এটাকে তার একটা অধিকার বলে মনে করছে। অন্যদিকে চালানপত্র চাওয়ার ক্ষেত্রে সংকোচ করাটাও অমূলক। ভ্যাট আপনি দিচ্ছেন সরকারকে, এরসাথে ঐ দোকানের কোনই সম্পর্ক নেই। সূতরাং চালানপত্র না দিলে বরং ঐ ব্যবসায়ীর সংকুচিত থাকার কথা। গচ্ছিত টাকার উপর ১৫% সুদ দুনিয়ার কোনও ব্যাংকও দেয় না। সেখানে শুধু নিজের চক্ষুলজ্জার খাতিরে সরকারের ১৫% ভ্যাট আপনি দোকানদারের পকেটে দিয়ে আসলে সেটাই হবে লজ্জা।

 

Source: https://www.facebook.com/photo.php?fbid=10156064366090453&set=a.10151840946985453.862755.584700452&type=1&theater

Was this review helpful? Yes
0 Helpful votes